রাজধানী ঢাকা কিছুটা ফাঁকা। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে গত দুই দিনে বহু মানুষ শহর ছেড়েছেন। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, লোকসমাগম কমলে হয়তো বায়ুদূষণেও সামান্য স্বস্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা—ঢাকার বাতাস এখনো ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়েই রয়ে গেছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা এয়ার ভিজুয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ২৮২। এই মাত্রাকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এমন অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বাইরে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ঢাকা। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি, যেখানে একিউআই স্কোর ৩২৬—যা ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের কাছাকাছি। তৃতীয় স্থানে ছিল আফগানিস্তানের কাবুল, যার স্কোর ২৭২। দূষণের উচ্চমাত্রায় থাকা শহরের তালিকায় আরও রয়েছে মঙ্গোলিয়ার উলানবাতর ও ভারতের কলকাতা।
অন্যদিকে একই সময় বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বাতাসের শহর হিসেবে তালিকার শীর্ষে ছিল কানাডার ভ্যানকুভার। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল মাত্র ১৩, যা ‘ভালো’ মানের বায়ু নির্দেশ করে। তালিকায় এরপর রয়েছে স্পেনের বার্সেলোনা, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস, আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল।
একিউআই সূচক অনুযায়ী, বায়ুর মান ০ থেকে ৫০ হলে তা ভালো, ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা চরম অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে যানবাহনের চাপ কমলেও নির্মাণকাজের ধুলা, ইটভাটার ধোঁয়া ও আশপাশের অঞ্চলের দূষিত বায়ু ঢাকায় প্রবেশ করায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কঠোর নজরদারি ছাড়া বায়ুমান নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণজনিত কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন :