ঢাকা শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তিন দশক পর বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ, নিরাপত্তা বিতর্কে টুর্নামেন্ট শুরু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৭ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

মাঠ প্রস্তুত, প্রতিপক্ষ তৈরি, সূচিও চূড়ান্ত—তবু নেই লাল-সবুজের উপস্থিতি। শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ভারতের কলকাতায় শুরু হয়ে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, কিন্তু নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্তের কারণে এই বৈশ্বিক মঞ্চে নেই বাংলাদেশ দল। এর ফলে প্রায় ৩০ বছর পর কোনো বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশকে ছাড়াই।

কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই মাঠে নামার কথা ছিল লিটন দাসদের। তবে ভারত সফর ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। একাধিক বৈঠক ও আলোচনা হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই অনুরোধ গ্রহণ করেনি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের নিজস্ব মূল্যায়নে কোনো ‘যাচাইযোগ্য হুমকি’ পাওয়া যায়নি।

এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে র‍্যাংকিংয়ে ১৪তম দল স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে ২০০৭ সালে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকে টানা নয়বার অংশ নেওয়ার পর দশম আসরে এসে দর্শকের ভূমিকায় থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

সর্বশেষ বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বকাপ হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। এরপর ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই নিয়মিত অংশগ্রহণকারী দলে পরিণত হয় বাংলাদেশ। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন।

নিরাপত্তা ইস্যুর সূত্রপাত হয় আইপিএলকে ঘিরে। আইপিএলের আসন্ন মৌসুমের জন্য মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিলেও ভারতের উগ্রবাদী কিছু সংগঠনের আপত্তির মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে তাকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপর থেকেই ভারত সফর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিসিবি।

বিশ্বকাপে না গিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ দল মিরপুরে তিন দলের ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’-এ অংশ নিচ্ছে। বিশ্বকাপ স্কোয়াড এই টুর্নামেন্টে ধুমকেতু নামে খেলছে। অথচ আজ কলকাতায় ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশের।

আইসিসির সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও বোর্ড পর্যায়ে বাংলাদেশ পাশে পেয়েছিল কেবল পাকিস্তানকে। শুরুতে পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছিল, বাংলাদেশের দাবি মানা না হলে তারাও বিশ্বকাপ বয়কট করবে। যদিও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে তারা। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, দল বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না।

বিশ্বকাপে না খেলতে পারার কষ্ট স্পষ্ট ক্রিকেটারদের মধ্যেও। তবে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল মনে করেন, এই অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে তাকানোই শ্রেয়। ২০০৭ সালের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন আশরাফুল। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার সময় এখন আর নেই। খেলোয়াড়রা বর্তমানে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ও সামনে থাকা জাতীয় সূচি নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন।

বিশ্বকাপে দল না থাকলেও বাংলাদেশের উপস্থিতি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত এবং আন্তর্জাতিক আম্পায়ার গাজী সোহেল বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা করবেন। এছাড়া ধারাভাষ্যকার হিসেবে থাকছেন আতহার আলি, যিনি নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কণ্ঠ দেন।

বিশ্বকাপের প্রথম দিনে তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কলম্বোয় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান। কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলছে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। আর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত মাঠে নামছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ না থাকায় কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে দর্শক আগ্রহে বড় ধস নেমেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, ৬৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠে এখনো ২১ হাজার টিকিটও বিক্রি হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ–স্কটল্যান্ড ম্যাচে বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯১৭টি টিকিট। ইংল্যান্ড–স্কটল্যান্ড ম্যাচেও বিক্রি হয়েছে দুই হাজারের কিছু বেশি। অনেকের মতে, বাংলাদেশ না থাকায় বিশ্বকাপের সার্বজনিক আকর্ষণই বড় ধাক্কা খেয়েছে।

Link copied!