ঢাকা বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে পশুর হাটে কাদা-পানির দুর্ভোগ, চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬, ০৫:৪১ বিকাল

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটে টানা বৃষ্টির কারণে তৈরি হয়েছে কাদা, পানি আর দুর্ভোগের চিত্র। জলাবদ্ধতায় পশু রাখা, ক্রেতাদের চলাচল এবং ব্যবসা পরিচালনা—সবকিছুতেই বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েছেন বিক্রেতারা। ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলেও কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ধোলাইখাল, ধূপখোলা মাঠ ও আরমানিটোলা এলাকার কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থানে হাঁটাচলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও আবার জমে থাকা পানির কারণে পশু দাঁড় করিয়ে রাখাও কঠিন হয়ে উঠেছে। বৃষ্টিতে ভিজে পশুখাদ্য নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি রাতে পশু পাহারা দিতেও বাড়তি সমস্যায় পড়ছেন বিক্রেতারা।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে হাটে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। এতে খরচ বাড়লেও বিক্রি বাড়ছে না। বিশেষ করে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা থাকলেও দরদামে মিল না হওয়ায় অনেক ক্রেতাই ঘুরে ফিরে যাচ্ছেন।

ধূপখোলা হাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা এক ব্যবসায়ী জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গেছে। প্রতিদিন খাবার, শ্রমিক ও পশুর দেখভালের খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই তুলনায় বিক্রি হচ্ছে না। এখনো অনেক পশু অবিক্রীত রয়ে গেছে।

অন্যদিকে ক্রেতারাও পড়েছেন ভোগান্তিতে। কাদার কারণে পরিবার নিয়ে হাটে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, ভেজা ও কাদাময় পরিবেশে গরু দেখা কিংবা পছন্দ করা ঝামেলার হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকে শেষ মুহূর্তে গরু কেনার পরিকল্পনা করছেন, এই আশায় যে ঈদের আগে দাম কিছুটা কমতে পারে।

ধোলাইখাল পশুর হাটে দেখা গেছে, অনেক বিক্রেতা প্লাস্টিকের ত্রিপল টাঙিয়ে গরু বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তবে বৃষ্টির পানিতে খড় ও খাবার নষ্ট হওয়ায় অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে।

হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃষ্টি থামার পর কাদা ও পানি সরানোর কাজ শুরু করা হয়। কোথাও কোথাও বালু ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে যাতে পশু অসুস্থ না হয়ে পড়ে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ঈদের আগ মুহূর্তে পশুর হাটে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে সরকারি হিসাবে, দেশে এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। পাশাপাশি সরকার এবার গরুর কাঁচা চামড়ার দামও বাড়িয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

Link copied!