ঈদুল আজহা সামনে রেখে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, পরিবহন খাতে কিছু অসাধু চক্র বা দুর্বৃত্ত সক্রিয় রয়েছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য যাত্রীদের পরিবহনের নামসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, টার্মিনালের প্রতিটি কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা ও নির্ধারিত স্টিকার টানানো হয়েছে। একইভাবে বাসগুলোতেও নির্ধারিত ভাড়ার তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারের মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতায় আগের তুলনায় যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সড়ক মন্ত্রী আরও বলেন, অনেক যাত্রী আগেভাগে টিকিট না কাটার কারণে শেষ মুহূর্তে সমস্যায় পড়ছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে পরিবহনের চালক বা সুপারভাইজার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
কোরবানির পশুর হাট প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়কে পশুর হাট না বসানোর বিষয়ে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কোরবানির পশু ও ক্রেতার চাপ বাড়ার কারণে কোথাও কোথাও হাট সড়কের অংশে চলে আসছে, ফলে কিছুটা সমন্বয় সংকট তৈরি হচ্ছে।
মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এসব যানবাহনে যাতায়াত করছে। তবে প্রতিটি ট্রাক থামিয়ে ব্যবস্থা নিতে গেলে কখনো কখনো যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় নাগরিকদের সচেতনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, শুধু প্রশাসনিক নজরদারি নয়, যাত্রীদের দায়িত্বশীল আচরণও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন :