ঢাকা বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬, ০৫:২০ বিকাল

ছবি: সংগৃহীত

‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কার ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দান। পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার (২৬ মে) সেখানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি হাজি।

জিলহজ মাসের নবম দিনে ভোর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা দলে দলে আরাফাতের ময়দানে জড়ো হন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, তওবা ও দোয়ায় মশগুল থাকেন।

ইসলামে ‘উকুফে আরাফাহ’ হজের মূল ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “হজই হলো আরাফাহ।” এই হাদিস থেকেই আরাফাতের দিনের তাৎপর্য স্পষ্ট হয়।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এটি ইসলামী বর্ষপঞ্জির অন্যতম পবিত্র দিন। আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ হিসেবে দিনটিকে দেখা হয়। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) বিদায় হজে আরাফাতের ময়দানেই তার ঐতিহাসিক শেষ খুতবা প্রদান করেছিলেন। সেখানে তিনি মানবতার সমতা, ন্যায়বিচার এবং জীবন ও সম্পদের মর্যাদা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে হাজিদের উদ্দেশে আরাফাতের খুতবা প্রদান করা হয়। এরপর হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করেন। দিনজুড়ে তারা তালবিয়া, তাকবির ও মোনাজাতে অংশ নেন।

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরাফাত একটি বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত প্রান্তর। এর কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ‘জাবাল আল-রাহমাহ’ বা রহমতের পাহাড়। বহু হাজি সেখানে গিয়ে ইবাদত ও দোয়ায় অংশ নেন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থান আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের স্মৃতিবাহী।

এর আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’ পালন করেন। সেখানে তারা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতি নেন এবং ইবাদতে সময় কাটান।

এদিকে চলতি বছর তীব্র গরমের কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিশেষ সতর্কতা নিয়েছে। ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মধ্যে হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা সেবা, পরিবহন ব্যবস্থা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি সাড়াদান ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে তারা রাতযাপন করবেন এবং পরদিন শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের প্রস্তুতি নেবেন।

 

Link copied!