ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী থেকে গ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের ব্যাপক যাতায়াত শুরু হয়েছে। তবে এই ভ্রমণ পরিস্থিতি দেশের চলমান হাম সংক্রমণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আশঙ্কা, ঈদের সময় গণপরিবহন ও জনসমাগম বাড়ার কারণে সংক্রমণ দ্রুত বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে, যার প্রভাব ঈদের পর আরও স্পষ্ট হতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিতে ঈদের ছুটিতেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, সেখানে চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে বাড়তি নজরদারির কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে দৃশ্যমান র্যাশ বা গুটি ওঠার কয়েক দিন আগ থেকেই ভাইরাস অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে কোনো শিশু সামান্য জ্বর, সর্দি বা দুর্বলতায় ভুগলেও তাকে নিয়ে দূরপাল্লার ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ঈদের সময় এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি অজান্তেই বহু মানুষের সংস্পর্শে আসেন। এতে সংক্রমণের শৃঙ্খল দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কারও জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা থাকলে আপাতত ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই ভালো। একই সঙ্গে জনসমাগমপূর্ণ স্থান, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত মেলামেশা সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য খাতেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচির বিস্তার জরুরি। এখনো দেশের অনেক এলাকায় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় টিকাদান না হওয়ায় সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। তাই শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের বাড়তি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন :