চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি সমন্বিত হাব বা প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। সেখানে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, এপিবিএনসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কার্যত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল ছিল। ফলে জায়গাটি অপরাধী ও সন্ত্রাসী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিল। সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এলাকায় একটি সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় পুলিশ ও র্যাবের অ্যাকাডেমি, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, বিজিবি ও এপিবিএনের জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধা নির্মাণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কারাগার স্থানান্তরের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আর কোনো সুযোগ রাখা হবে না। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
ঈদযাত্রা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক, সেতু ও এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যমুনা ও পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন রুট সিসিটিভির আওতায় রয়েছে। যেখানে স্থায়ী ক্যামেরা নেই, সেখানে পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, আগের সময়ের তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে। তবে যাত্রীদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পশুর হাটে জালনোট প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় বিভিন্ন হাটে জালনোট শনাক্তকারী মেশিন বসানো হয়েছে।
এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :