ঢাকা সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জিতে আসা বিদ্রোহীরা কী করবেন, সিদ্ধান্ত এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৫ রাত

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়া সাত সংসদ সদস্যই দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন এবং পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এখন প্রশ্ন— তারা কি দলে ফিরবেন, নাকি স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখবেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলে ফেরা নিশ্চিত নয়। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। তবে সাধারণত বহিষ্কৃত নেতারা প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার অঙ্গীকার করলে এবং সমঝোতা হলে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ‘হাঁস’ প্রতীকে জয়ী আলোচিত প্রার্থী রুমিন ফারহানা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করেন। নির্বাচনের পর দলে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি এখনই মন্তব্য করতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন।

দিনাজপুর-৫ আসনে ‘তালা’ প্রতীক নিয়ে জয়ী এ. জেড. এম. রেজওয়ানুল হক বলেছেন, দল চাইলে তিনি ফিরতে আগ্রহী। একইভাবে চাঁদপুর-৪ আসনে ‘চিংড়ি’ প্রতীকে জয়ী এম. এ হান্নান নিজেকে দলের লোক উল্লেখ করে শপথের পর দলীয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

টাঙ্গাইল-৩ আসনের বিজয়ী লুৎফর রহমান খান আজাদ জানিয়েছেন, তিনি নিজেকে এখনো বিএনপির অংশ মনে করেন এবং দলের নেতৃত্বের সঙ্গেই থাকতে চান। অতীতে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

কুমিল্লা-৭ আসনে ‘কলস’ প্রতীকে জয়ী আতিকুল আলমও নিজেকে দলের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শপথের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ‘হাঁস’ প্রতীকে জয়ী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, দল চাইলে তিনি বিএনপির সঙ্গেই কাজ করবেন। দল না চাইলে স্বতন্ত্র হিসেবেই বিরোধী আসনে বসে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

এ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ৭৮টি আসনে। এর মধ্যে সাতজন সরাসরি জয়ী হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, জয়ী বিদ্রোহীদের বেশিরভাগই দলে ফেরার আগ্রহ দেখালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক কৌশলের ওপর। এখন দেখার বিষয়— দল পুনর্মিলনের পথ বেছে নেয়, নাকি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদারে কঠোর অবস্থান ধরে রাখে।

Link copied!