ঢাকা সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সেভিংস শেষ, দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার ফয়েজ তৈয়্যবের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৬ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্টে দেশত্যাগ করা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব দাবি করেছেন, তিনি সৎ ব্যক্তি এবং এক টাকাও দুর্নীতি করেননি।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশত্যাগের পর দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ৮, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন। এরপর নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনী আয়োজনেও তার কিছু অবদান ছিল বলে জানান। ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল তার অফিসিয়াল শেষ কর্মদিবস। সেদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছেন এবং সহকর্মীরা গান গেয়ে তাকে বিদায় জানিয়েছেন— যা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওয়ালে রয়েছে।

তিনি লেখেন, একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও সৎ ব্যক্তিকে অসম্মানজনক মন্তব্য করার আগে তথ্য যাচাই করা উচিত। বিদায়ের সময় এক সহকর্মী তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্রুত একটি চাকরি খুঁজতে হবে। দেশের জন্য কাজ করতে এসে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং তার সেভিংস শেষ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন।

পোস্টে তিনি আরও জানান, ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং রয়েছে এবং স্ত্রীর চিকিৎসাজনিত জরুরি বিষয়ও আছে। ছুটি নিয়ে পরিবারের কাছে যাচ্ছেন উল্লেখ করে বলেন, তিনি রিটার্ন টিকিট কেটে দেশে এসেছেন— সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তারিখ জানা যাবে। দীর্ঘ সময় পরিবারকে সময় দিতে না পারার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে দিনটির কথাও উল্লেখ করেন।

ফয়েজ তৈয়্যব লেখেন, অনেক বই উপহার পেয়েছেন এবং সেগুলো সঙ্গে নিয়েছেন। দীর্ঘ ক্লান্তির পর বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। স্লিপিং সাইকেল ব্যাহত হওয়ায় গত এক বছর নিয়মিত ঘুমাতে পারেননি বলেও দাবি করেন। বিশ্রামের পাশাপাশি উপহার পাওয়া বই পড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।

তিনি আরও লেখেন, অল্প সময়ে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। একটি শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করেছেন এবং পুরোনো আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনে কঠোর পরিশ্রম করেছেন— যা প্রায় পাঁচ বছরের কাজের সমান বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে পেশাদার গবেষণা সংস্থা বা অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই করার আহ্বান জানান।

“আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি, আমি এক টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমি স্বভাবে সৎ মানুষ। টাকা আত্মসাৎ করেছি— এ অভিযোগ মেনে নিতে পারি না। মোবাইল ব্যবসায়ী ও টেলিকম মাফিয়ারা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে। আমি তাদের কাছে মাথা নত করিনি”— পোস্টে এমনটাই লিখেছেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, দ্রুত একটি চাকরি খুঁজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। স্ত্রী-সন্তানকে বঞ্চিত করে নিরাপদ জীবন ছেড়ে দেশে এসেছিলেন উল্লেখ করে দাবি করেন, কিছু মানুষ তাকে অপমান ও অপদস্থ করার চেষ্টা করেছে। তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে লেখেন, সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছেন।

Link copied!