ঢাকা সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মন্ত্রিসভার আকার কত হওয়া উচিত, মতভেদ বিশেষজ্ঞদের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৩ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

শপথের পর তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে— নতুন মন্ত্রিসভার আকার কত হওয়া উচিত এবং কারা স্থান পেতে পারেন সেখানে।

বাংলাদেশে অতীতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, সংসদীয় সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বিভিন্ন আকারের মন্ত্রিসভা দেখা গেছে। সর্বোচ্চ ৬২ সদস্যের মন্ত্রিসভাও ছিল। তবে দেশের আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মন্ত্রিসভার আদর্শ আকার নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছে মতভেদ।

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মত, মন্ত্রিসভার আকার ৪০ জনের মধ্যে সীমিত রাখা উচিত। কেউ কেউ ৫০ সদস্যকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন। অন্যদিকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সংখ্যা মিলিয়ে ৩৫ জনে সীমিত রাখার সুপারিশ করেছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৫১ আসন। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। শুক্রবার নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়াবেন। বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী মনে করেন, মন্ত্রিসভা মাঝারি আকারের হওয়াই উত্তম। তার মতে, ৪০ জনের মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মিলিয়ে সংখ্যা সীমিত রাখা যেতে পারে; প্রয়োজনে পরে বাড়ানো সম্ভব।

একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় মাঝারি আকারের মন্ত্রিসভা গঠনই সমীচীন। তার প্রস্তাব, ২০ থেকে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী রেখে বাকিরা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি মডেলের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে সাধারণত ১৭ থেকে ২২ জনের মন্ত্রিসভা দেখা যায়।

অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ মনে করেন, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়— যেমন অর্থ, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য— অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া জরুরি। তার মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভার আকার ৫০ জনের বেশি হওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি মন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধায় কৃচ্ছ্রসাধনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ৪০ জনের বেশি হলে মন্ত্রিসভা ‘মাথাভারী’ হয়ে যায়। উপমন্ত্রীর পদ রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। সাবেক আমলা মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া মত দেন, প্রথম পর্যায়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের মধ্যে মন্ত্রিসভা সীমিত রাখা ভালো; পরে প্রয়োজন হলে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গত বছর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দেয়, তাতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীর সংখ্যা ৩৫ জনে সীমিত করার সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও ৬১টি বিভাগ রয়েছে। কমিশন এগুলো পুনর্বিন্যাস করে ২৫টি মন্ত্রণালয় ও ৪০টি বিভাগে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। তাদের মতে, অযৌক্তিকভাবে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা বাড়ানোয় ব্যয় বেড়েছে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা কমেছে।

সব মিলিয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাজনৈতিক অঙ্গন। বিশেষজ্ঞদের অভিমত— ভারসাম্যপূর্ণ, দক্ষ ও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী কাঠামোই হতে পারে সময়োপযোগী সমাধান।

Link copied!