আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৯ আসনের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন নারী ভোটার ও পোশাকশ্রমিকরা। শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত সাভার–আশুলিয়ায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বসবাস করায় ভোটের মাঠে তাদের অবস্থানই হয়ে উঠেছে মূল ফ্যাক্টর।
আশুলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা পোশাকশ্রমিক লিটন শেখ ও তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার জানান, এবার তারা ভোট দিতে আগ্রহী। আগের নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও এবার সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে চান। তাদের মতে, যিনি নিরাপদ চলাচল, জলাবদ্ধতামুক্ত এলাকা ও চুরি-ছিনতাইমুক্ত সাভার গড়ে তুলতে পারবেন, তাকেই তারা ভোট দেবেন।
রেডিও কলোনি, ছায়াবীথি, হরিণধরা, পলাশবাড়ী ও নরসিংহপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ রয়েছে। কেউ ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আবার অনেকেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান। তাদের ভাষায়, যাঁর প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে, ভোট যাবে তাঁর দিকেই।
পোশাকশ্রমিক রুপা আক্তার বলেন, চলাফেরার নিরাপত্তা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও রাস্তাঘাটের শৃঙ্খলাই তাদের প্রধান চাওয়া। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন গৃহিণী শারমিন সুলতানা। তিনি বলেন, সন্তানদের বাইরে পাঠালে নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে, পাশাপাশি তীব্র যানজটও বড় সমস্যা।
স্থানীয়দের মতে, বিগত নির্বাচনগুলোতেও শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটই জয়-পরাজয় নির্ধারণ করেছে। আশুলিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম মনে করেন, বিপুলসংখ্যক পোশাকশ্রমিক যেদিকে ভোট দেবেন, তিনিই নির্বাচনে এগিয়ে থাকবেন। তাই শ্রমিকবান্ধব প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেওয়ার বিকল্প নেই।
সম্প্রতি ঢাকা–১৯ আসনের শ্রমিক সংগঠনগুলো ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিক কলোনি নির্মাণ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডে-কেয়ার সেন্টার, আধুনিক হাসপাতাল, কার্যকর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপদ চলাচলের জন্য সিসি ক্যামেরা ও আলোকবাতি স্থাপন, মাদক ও চাঁদাবাজি দমন, রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং বাড়িভাড়া আইন কার্যকর করা।
এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাতটি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও একটি সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–১৯ আসনে ২৭৫টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ৫২৩টি কক্ষে ভোট দেবেন ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯০৭ জন, নারী ৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৫০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩ জন।

আপনার মতামত লিখুন :