ঢাকা শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

ইউরেনিয়াম ছাড়বে না ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নতুন অস্ত্র’ দিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬, ১২:০৫ রাত

সংগৃহীত

পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে না বলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ‘নতুন ও অপ্রয়োগকৃত অস্ত্র’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—দেশে মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর প্রশ্নই আসে না। তেহরানের আশঙ্কা, কৌশলগত এই সম্পদ হাতছাড়া হলে ভবিষ্যতে সামরিক ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

পরমাণু ইস্যুতে কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি একটি সম্ভাব্য সমঝোতার লক্ষ্যে দুই পক্ষ প্রস্তাব বিনিময় করলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো সর্বশেষ প্রস্তাব পর্যালোচনায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধের মূল জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। যুক্তরাষ্ট্র চায়, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ ইরান দেশের বাইরে সরিয়ে নিক। তবে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের হাতে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, এই সক্ষমতা ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির দিকে যেতে পারে। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত সাড়া না মিললে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এক কর্মকর্তা বিদেশি গণমাধ্যমকে বলেন, দেশটির হাতে এমন কিছু আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি রয়েছে, যা আগে কোনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি। প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে নতুন সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতাও শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

Link copied!