ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে উদ্ধার হওয়া মাথা ও শরীর বিচ্ছিন্ন মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহত ব্যক্তি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দেবীপুর এলাকার বাসিন্দা কাউসার আলম (৪০)। প্রায় ১৭ বছর আগে পারিবারিক অভিমান থেকে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, কাউসার আলম দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। ২০০৯ সালের দিকে একটি মাইক্রোবাস কেনা নিয়ে বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।
কাউসারের বোন নিলুফা আক্তার জানান, বাড়ি ছাড়ার কয়েক বছর পর তাদের বাবা মারা গেলেও কাউসার এলাকায় ফিরে আসেননি। পরে প্রায় এক দশক পর হঠাৎ বড় বোনের মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সে সময় তিনি ঢাকায় বসবাস ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নিজের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, মাঝে মধ্যে ঢাকায় কাউসারকে দেখার কথা শোনা গেলেও তিনি স্থায়ীভাবে কোথায় থাকতেন, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে গফরগাঁও এলাকায় মাথা ও শরীর বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :