বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করেছেন তিনি।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় ওই অঞ্চলে পানির সংকট, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা বেড়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী-এর নেতৃত্বে লাখো মানুষ ফারাক্কার দিকে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নিয়েছিল। গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে সেই আন্দোলন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়েছিল। পরে সেটি স্থায়ী রূপ নেয় এবং এখন তা বাংলাদেশের জন্য “মরণফাঁদে” পরিণত হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে অভিন্ন নদীগুলোতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। তিনি দাবি করেন, এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরুকরণের লক্ষণ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রতি বছর পালিত ‘ফারাক্কা দিবস’ জনগণকে ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করে। একই সঙ্গে দিবসটির সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :