ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইউরোপীয় পর্যবেক্ষণে

২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৯ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক এবং দক্ষতার সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। সংস্থাটির মতে, এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পর্যবেক্ষক মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর এবারই প্রথম বাংলাদেশে একটি বাস্তব প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নতুন একটি আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়েছে। এই কাঠামো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে মূলত সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি অধিক সম্মান প্রদর্শন করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিছু বিচ্ছিন্ন স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা লক্ষ্য করা গেলেও, সেগুলোর একটি বড় অংশ অনলাইনভিত্তিক বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যপ্রবাহ থেকে উৎসারিত। এসব ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করে মিশন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দলের মতে, নির্বাচন কমিশন পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করেছে। বিভিন্ন অংশীজনের আস্থা ধরে রেখে নির্বাচন পরিচালনা এবং নির্বাচনের সার্বিক অখণ্ডতা রক্ষায় কমিশনের ভূমিকা ইতিবাচক ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের নির্বাচনি আইন সংশোধন নির্বাচন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়।

তবে প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে, নির্বাচনি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আইনি নিশ্চয়তা বাড়ানো, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন ফাঁকফোকর দূর করতে অতিরিক্ত সংস্কার প্রয়োজন। পর্যবেক্ষকরা জানান, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতায় কমিশন খোলামেলা ও তথ্যভিত্তিকভাবে কাজ করেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের দ্রুত জবাব দেওয়া, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের বিষয়গুলোকে ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

Link copied!